| | |

চট্টগ্রাম

ছয় মাসে অধিকাংশ সড়ক সংস্কারের লক্ষ্য, রোড সুপারভাইজারদের নির্দেশ শাহাদাতের

আগামী ছয় মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী রোড সুপারভাইজারদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) নগরীর টাইগারপাসে চসিকের প্রধান নগর ভবনে রোড সুপারভাইজারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

সভায় প্রশাসক বলেন, নগরীর সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ের সঠিক তথ্য প্রয়োজন। রোড সুপারভাইজাররা নিজ নিজ এলাকার সড়কের অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। কোথায় সড়ক ভেঙে গেছে, কোথায় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে এবং কোথায় জরুরি সংস্কার প্রয়োজন, এসব তথ্য নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করে দ্রুত প্রধান প্রকৌশলীকে জানাতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই হবে না, বরং গুরুত্ব বিবেচনায় সংস্কারকাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমের অনুকূল আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে সড়ক সংস্কার ও অন্যান্য প্রকৌশলগত কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

নগরীর সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল এবং হকার সমস্যা প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এসব দখলের কারণে নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে সড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণকাজও বাধাগ্রস্ত হয়। যেসব স্থানে অবৈধ দখল রয়েছে বা দখলমুক্ত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তা প্রয়োজন, সেসব তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের জানাতে হবে।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো বাধার মুখে পড়লে এককভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা না করে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেন তিনি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাজে অবহেলা না করারও নির্দেশ দেন প্রশাসক।

জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে তিনি বলেন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোথাও ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হলে, পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হলে কিংবা সড়ক ও ড্রেন রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের জানাতে হবে। সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি। সমন্বিতভাবে এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে বর্ষায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমবে এবং সড়কের স্থায়িত্ব বাড়বে।

নগরীর পরিবেশের উন্নয়ন ও সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসক বলেন, সড়ক বিভাজক ও রাস্তার পাশের উপযুক্ত স্থানে বৃক্ষরোপণ, রোপিত গাছের পরিচর্যা এবং সবুজ অবকাঠামো রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি রাখতে হবে। কোথাও গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করতে দাপ্তরিক পরিকল্পনার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। রোড সুপারভাইজারদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য রাখতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো, নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ তৈরি এবং অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাটাগরি