মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্প প্রশাসনের ৩ কর্মকর্তার পদত্যাগ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে একে একে পদত্যাগ করছেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে প্রশাসনের তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এসব পদত্যাগের তথ্য জানানো হয়।
ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী ও বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বৃহস্পতিবার জানান, নাগরিক অধিকারবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিত ধীলনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন তিনি।
ধীলন প্রায় ৩০টি অঙ্গরাজ্য থেকে ভোটার নিবন্ধনের তালিকা সংগ্রহের একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে।
একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ধীলনের পদত্যাগপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, গত অক্টোবরেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল থাকতে সম্মত হয়েছিলেন।
শুক্রবার টড ব্ল্যাঞ্চ আরও জানান, জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন আইজেনবার্গ এবং ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন রেডিং কুইনোনেসও পদত্যাগ করেছেন।
জেসন রেডিং কুইনোনেস এমন কয়েকজন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত তদারকি করছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁরা তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন।
ট্রাম্পের শাসনামলে বিচার বিভাগ এমন বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করেছে, যাঁদের তিনি নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা শত্রু হিসেবে বিবেচনা করতেন। অভিযোগ আনতে অনিচ্ছুক বা অক্ষম হওয়ায় বিচার বিভাগের বেশ কয়েকজন প্রসিকিউটরকে চাকরি হারাতে হয়েছে।
এদিকে বিচার বিভাগের দায়ের করা আলোচিত একটি মামলায় এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমিকে গত এপ্রিলে অভিযুক্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইনস্টাগ্রামে সামুদ্রিক ঝিনুকের ছবি সংবলিত একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।