শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব নয়, দেশ গঠনেও ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি
যুবসমাজকে দেশের প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, শুধু রাজনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তন আনলেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়; বরং দেশ গঠনেও যুবসমাজকে সমান ভূমিকা রাখতে হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী করতে হবে। তাদের হাতে উৎপাদনের চালিকাশক্তি তুলে দিতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য এতদিন সংগ্রাম করেছি। এখন আমাদের সংগ্রামটা এই দেশকে নির্মাণ করার জন্য। বিল্ড দিস কান্ট্রি, বিল্ড দিস নেশন।”
যুবসমাজই দেশের ভবিষ্যৎ
যুবসমাজের সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনসংখ্যার সবচেয়ে বড় অংশ তরুণ। এই জনমিতিক সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করতে পারবে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, যাতে দেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে যুবসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের কর্মসংস্থান ও ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।
বেকারত্ব দূর করতে প্রশিক্ষণ ও ঋণসহায়তার ওপর গুরুত্ব
নিজ এলাকার বেকারত্বের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক শিক্ষিত তরুণ চাকরি পাচ্ছেন না। এমনকি ক্লিনার পদেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের কাজ না পাওয়ার বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দেয়।
বেকারত্ব দূর করতে যুব অধিদপ্তরের কার্যক্রম সারা দেশে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর মতে, তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করতে প্রশিক্ষণ, ঋণসহায়তা ও স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থার আহ্বান
শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করেও চাকরি পাচ্ছেন না। অথচ তাঁদের অভিভাবকেরা জমি বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ বহন করছেন।
তিনি বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও ভোকেশনাল, টেকনিক্যাল ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তাই দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রয়োজনভিত্তিক করতে হবে।
এ ছাড়া বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, দক্ষ ও শিক্ষিত কর্মী বিদেশে পাঠাতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং রেমিট্যান্স আয় বাড়বে।
সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতির ওপর গুরুত্ব
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের উচিত সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতিতে গুরুত্ব দেওয়া এবং সংসদের মাধ্যমেই দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান করা।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে যুবকদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কখনোই হতাশ হতে পারি না। আমরা হতাশ জাতি নই। আমরা সব সময় লড়াই করি, সংগ্রাম করি। এই সংগ্রাম আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”