| | |

চট্টগ্রাম

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে চড়া মূল্য দিতে হবে: শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে যেমন ক্ষমতায় বসাতে পারে, তেমনি প্রয়োজনে টেনেহিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামিয়েও দিতে পারে। তিনি বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না করলে এর জন্য সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘এ-প্লাস সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, এমন এক রাষ্ট্রে আমরা বসবাস করছি, যেখানে কুমিল্লায় নিহত অপ্রতিমের মা-বাবা বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে আহাজারি করছেন। সন্তানকে হারিয়ে তারা কীভাবে বেঁচে থাকবেন, সেটিই তাদের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে এবং সরকার তা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থামছে না। জনগণ প্রতিটি পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে বসবাস করলেও সরকার কেন তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে—এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে, তা দেখে মনে হচ্ছে আমরা রোহিঙ্গা কিংবা অন্য কোনো দেশ থেকে এখানে ঘুরতে এসেছি। গত সাত মাসে দেশে অন্তত ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। সরকারি হিসাবের বাইরেও প্রতিদিন অনেক শিশু নিখোঁজ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, সংবিধানের সংস্কার হচ্ছে না এবং জনগণের যৌক্তিক দাবিও মানা হচ্ছে না। এমনকি গণভোটের আলোকে মৌলিক পরিবর্তনগুলোও আনা হচ্ছে না। কেন এসব বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, তার কোনো ব্যাখ্যাও দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, কেবল মুখে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে, আর কালক্ষেপণ করে বিভিন্ন দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এসব বোঝে না—এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। জনগণ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

সংবর্ধিত কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মানুষ গোলাপের মতো সুবাস ছড়াবে, ততক্ষণ পিতা-মাতা ও সমাজ তার প্রশংসা করবে। তাই আত্মগঠন ও মেধার বিকাশ ঘটিয়ে ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় হাজার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের শহীদ আবিদ বিন ইসলামের বাবা। এতে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সম্পাদক এইচ এম আবু মুসা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফজলুল হক।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে এবং পরিচালনা সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাটাগরি