চবিতে দর্শনার্থীদের ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় ২ শিক্ষার্থী আটক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ঝরনা এলাকায় দর্শনার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। পরে ভুক্তভোগীদের দেওয়া পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
আটক দুই শিক্ষার্থী হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. শিমুল ফকির এবং একই শিক্ষাবর্ষের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ফাহিম আহমেদ অপি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে হাটহাজারী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. আসহাব উদ্দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝরনা এলাকায় ঘুরতে যান। তাঁর অভিযোগ, সেখানে শিমুল ও তাঁর দুই সহযোগী তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ১৫০ টাকা নেন। পরে বিকাশের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ২০ টাকা নেওয়া হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ ছাড়া চবি ল্যাবরেটরি কলেজের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের পূর্ব পাশের সেতু এলাকায় শিমুল ও ফাহিম তাঁকে ডেকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর চোখে আঘাত করা হয়। পরে তাঁর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মুঠোফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
পাশাপাশি বাগেরহাট স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা শিমুলের বিরুদ্ধে নারী হেনস্তা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন। বহিরাগত দর্শনার্থীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তাঁদের ব্ল্যাকমেইল এবং টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক রাব্বি তাওহিদ।
রাব্বি তাওহিদ বলেন, এক বহিরাগত দর্শনার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর তাঁরা ওই ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর কাছে থাকা ছবি দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানানো হয়।
এদিকে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের পর শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম (সুজন) বলেন, ঝরনা এলাকায় এক পর্যটকের কাছ থেকে নগদ ১৫০ টাকা ও বিকাশে ১ হাজার ২০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করার পর দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।