ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের বাঁশির সুরে বিমোহিত দর্শক-শ্রোতা
নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুক্ষণের জন্য সুরের জগতে হারিয়ে যান চট্টগ্রামের সংগীতপ্রেমীরা। উপমহাদেশের কিংবদন্তি বংশীবাদক ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের বাঁশির সুরে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে ক্লাবের উদ্যোগে এ বংশীবাদন সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। ওস্তাদ আজিজুল ইসলামকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ২০ বছর আগের চট্টগ্রামের কথা স্মরণ করলে সবুজ পাহাড়, সমতল ভূমি, কর্ণফুলী নদীর স্বচ্ছ পানি, বঙ্গোপসাগরের মোহনা ও হালদা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চিত্র চোখে ভেসে ওঠে। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে খাল ও নালার ওপর সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করে শহরের নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাঁশির সুরের আবহে তাঁরা আবারও এমন একটি আধুনিক চট্টগ্রামে ফিরে যেতে চান, যেখানে থাকবে না কোলাহল ও যানজট, থাকবে সবুজ ও নান্দনিক পরিবেশ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সবার সহযোগিতা পেলে তা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তরুণ প্রজন্মের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াচর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, একসময় সুর, বাঁশি, উচ্চাঙ্গসংগীত, সংস্কৃতি, কবিতা ও খেলাধুলা মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। এসব চর্চা কমে যাওয়ায় তরুণদের একটি অংশ বিপথে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সেদিন চকবাজারের সানশাইন মাঠে একটি কারাতে প্রতিযোগিতা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। সেখানে মেয়েরা আত্মরক্ষার কৌশল শিখছিল। এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও ইতিবাচক চর্চায় যুক্ত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংগীত ও বাঁশরিপ্রেমী দর্শক-শ্রোতাদের ধন্যবাদ জানান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ এবং কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পীসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতারা ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।