| | |

ধর্ম

৭৪ মণ্ডপে সাজছে ফটিকছড়ি, দুর্গোৎসব ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

শারদীয় দুর্গোৎসবের আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। তাই ফটিকছড়ির বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। কোথাও প্রতিমার শেষ আঁচড়, কোথাও চলছে রং-তুলির কাজ। আবার কোনো মণ্ডপে চলছে আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা ও প্যান্ডেল প্রস্তুতির কাজ। উৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে বদলে যেতে শুরু করেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চিত্র।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এবার ৭৪টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। এর মধ্যে ৫২টি স্থায়ী এবং ২৬টি অস্থায়ী মণ্ডপ। আগামী ১৬ অক্টোবর শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব। ২১ অক্টোবর বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের আয়োজন।

এ ছাড়া ভুজপুর থানার আওতাধীন সূয়াবিল ইউনিয়নের সাতটি পূজামণ্ডপও ফটিকছড়ি উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করবে।

প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের ছোঁয়া

উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের কারুকাজ ফুটিয়ে তুলতে।

কোথাও প্রতিমায় চলছে রঙের কাজ, কোথাও অলংকার ও সাজসজ্জা বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি মণ্ডপের সৌন্দর্য বাড়াতে চলছে আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি।

প্রতিমাশিল্পীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে তারা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ বাড়লেও উৎসবের আগে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে তারা আশাবাদী।

নিরাপত্তায় প্রশাসনের প্রস্তুতি

দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৪ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর।

সভায় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর। পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মণ্ডপে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ফটিকছড়ি উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রতন কান্তি চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সবার সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে পূজা উদ্‌যাপন সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় দেবনাথ বলেন, এবারের দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আনসার-ভিডিপি সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূজার সময় সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ সতর্ক থাকবে।

উৎসবের অপেক্ষায় ফটিকছড়ি

দুর্গাপূজার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। প্রতিমার কাজ শেষ করার পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজও চলছে সমানতালে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারও ফটিকছড়িতে সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হবে।

সব প্রস্তুতি শেষে এখন অপেক্ষা শুধু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের—১৬ অক্টোবর, যখন দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে ফটিকছড়িতে শুরু হবে পাঁচ দিনের শারদীয় উৎসব।

ক্যাটাগরি