| | |

চট্টগ্রাম

ধর্ম উপদেষ্টা থাকাকালে এক টাকাও ঘুষ নিইনি: ড. খালিদ হোসেন

 

অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এক টাকাও ঘুষ নেননি বলে দাবি করেছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে হজযাত্রীদের সাড়ে আট কোটি টাকা ফেরত দিয়েছেন। অর্থের চেয়ে ইজ্জত-সম্মান বড়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া এলাকার আল-মদিনা মহিলা মাদ্রাসার বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. খালিদ হোসেন বলেন, ‘আমি ঘুমাচ্ছিলাম। বন্ধুবান্ধব ফোন করে বলল, আপনার নাম উপদেষ্টা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় আসেন।’

তিনি জানান, উপদেষ্টা হওয়ার খবর পাওয়ার সময় চট্টগ্রামের হালিশহরে ছিলেন। সেখানে জুমার নামাজ পড়ানোর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গুলশানে যানজটে আটকে পড়লে এক বন্ধুর পরামর্শে স্কুটারে করে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হন।

পথে বিভিন্নজনের ফোনে জানতে পারেন, টেলিভিশনে উপদেষ্টা হিসেবে তার নাম প্রচার করা হচ্ছে। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ফোনে নিয়োগ ও শপথের বিষয়টি নিশ্চিত হন। ওই দিন রাত সাড়ে আটটায় বঙ্গভবনে শপথ নেন তিনি।

ক্ষমতা প্রসঙ্গে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আল্লাহ যাকে চান, ক্ষমতা দেন। আবার ইচ্ছা করলে তা কেড়েও নেন। ক্ষমতা স্থায়ী নয়। সুযোগ পেলে জনগণের সেবা করতে হবে।’

মুসলমানদের ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মুসলমানরা যখন ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, তখন বিশ্ব তাদের ভয় করত। বিভক্তির কারণে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। রাসুলে করিম (সা.)-এর তরিকা এবং আল্লাহর ওলি-কেরামের আদর্শ অনুসরণ করে নিজেদের সংশোধন করতে হবে।

হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. খালিদ হোসেন বলেন, দায়িত্ব পালনকালে হজযাত্রীদের সাড়ে আট কোটি টাকা ফেরত দিয়েছেন। আরও কিছু অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমান সরকার চার কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, অর্থের চেয়ে ইজ্জত-সম্মান বড়।

তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষ হজে যান। তাদের মধ্যে প্রায় ছয় হাজার সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকিরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেন। এ সময় হজের কোটা ও চুক্তি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শাইখ কাজী ইকবালের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন শিক্ষক ও সাংবাদিক এম জুনায়েদ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের জ্যেষ্ঠ মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি মাহমুদুল্লাহ। এ ছাড়া সম্মেলনে আলেম ওলামাসহ উপজেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাটাগরি