শিক্ষার উন্নয়নে সারা দেশে স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণ করবে সরকার: সরোয়ার আলমগীর
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে স্কুল-কলেজের নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সরোয়ার আলমগীর।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ফটিকছড়ি সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরোয়ার আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩১ দফার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, সরকার চার কোটি মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে এ কার্যক্রমের কাজ শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় তরুণ-তরুণীরা কাজ করছেন। তাঁদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি সঠিক তথ্য দিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ইনসাফ পার্টির এক ব্যক্তি ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিভ্রান্তি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এ কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি মহল সক্রিয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সরোয়ার আলমগীর বলেন, আগামীর বাংলাদেশ তরুণদের হাতেই গড়ে উঠবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার বিকাশে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তরুণেরা যাতে বিপথগামী না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফার ভিত্তিতে দেশ গঠনের উদ্যোগে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় এসব চারা রোপণ করবে। গাছের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও বেড়ে উঠবে এবং কলেজের পড়াশোনা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে ফটিকছড়ির সুনাম বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফটিকছড়ি সরকারি কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ ফটিকছড়ি গড়ে তোলার বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে ফটিকছড়িকে একটি সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ইদ্রিস মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল খালেক ও উপাধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান।
বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মিতু বড়ুয়া ও প্রভাষক এনএম রহমত উল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক সৌরভ কুমার সেনগুপ্ত ও অধ্যাপিকা ইছমত আরা বেগম। এ সময় কলেজের নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীরাও বক্তব্য দেন।