কক্সবাজারে সমুদ্র ডুবে তিন পর্যটকের মৃত্যু নিখোঁজ দুইজন
কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সড়কের রামু পেঁচারদ্বীপ পয়েন্টে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে ডুবে গিয়ে তিন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়ে তিনজনকে। গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃতদের মধ্যে দুইজন ঢাকার এবং একজন চট্টগ্রামের এবং নিখোঁজদের মধ্যে একজন ঢাকার এবং অন্যজন চট্টগ্রামের। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকার মৃত দুইজন হলেন, ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকার মোকারম হোসেনের পুত্র আল মাহিবুল ইবনে মোকারম ওরফে রোহান (২৩), দক্ষিণখান এলাকার মাহবুবুল হকের পুত্র সাইফুল হক জিসান (২৩) এবং নিখোঁজ ব্যক্তি হলেন, উত্তরা আজমপুর এলাকার লাবিবর রহমানের পুত্র এস এম নাফিজুর রহমান নিবিড় (২৩)।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে আসা মৃত পর্যটক হলেন, চট্টগ্রামের বায়েজিদ শেরশাহ জামতলা এলাকার মো. এরশাদের পুত্র মো. আকাশ (২০) এবং নিখোঁজ ব্যক্তি হলেন, বায়েজিদের শেরশাজ এলাকার মোঃ কবিরের পুত্র মো. হারুন (২০)।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, পর্যটকদের দুটি দল পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন রেজুখাল পেয়ে খাল ও সমুদ্রের মাঝে জেগে উঠা চরে ঘুরতে যায়। বিকেল পেরোলে সাগরে জোয়ার শুরু হলে পানি বেড়ে চরটি ডুবতে শুরু করে। কিন্তু পর্যটক দলের সদস্যরা সে বিষয়টি খেয়াল করেনি। এক পর্যায়ে চরটি পানিতে ডুবে গেলে তলিয়ে যায় দুই দলের পর্যটকরা। এই সময় স্থানীয় লোকজন চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটকদের তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং নিখোঁজ হন দুজন।
জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন, চট্টগ্রাম বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের পুত্র রাকিব হাসান (১৯), একই এলাকার মৃত ছগিরের পুত্র মোঃ সানী (২০) ও বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর মোঃ হেলালের পুত্র মো. আকাশ।
হাসপাতালে কথা হলে মো. সানী ও মো. আকাশ জানান, তারা গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে করে কক্সবাজার পৌছে আগে থেকে বুকিং করা পেঁচারদ্বীপে একটি রিসোর্টে উঠেন।
সেখান থেকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সাগরে নামেন এবং রেজুখাল পেরিয়ে ওই চরে চলে যান। একইভাবে অন্য একটি পর্যটক দলের সদস্যরা চট্টগ্রামের এই পর্যটক দলের সদস্যদের মতো খাল পেরিয়ে চরে চলে যান বলে জানান কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা চট্টগ্রামের এই দুইজন।
অন্যদিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাত বন্ধু ১৮ অক্টোবর রাতে ঢাকা থেকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে পরদিন বান্দরবানে পৌঁছান। সেখানে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে ২১ অক্টোবর দুপুরে তাঁরা কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার ‘শোর নেস্ট বিচ ক্যাম্প’ রিসোর্টে ওঠেন। পরে বিকেলে সাত বন্ধু পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান জানান, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাতেই মৃতদেহগুলো সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়। অন্যদিকে নিখোঁজদের দুইজনের সন্ধানের সাগরে তল্লাশী চালানো হচ্ছিল।
এদিকে, গত ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হওয়ার শোক কাটতে না কাটতেই হিমছড়িতে তিন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এই ঘটনায় পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা ও সমুদ্রে গোসলের সময় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।