| | |

চট্টগ্রাম

ফটিকছড়িতে সরকারি সহায়তায় বদলাচ্ছে অসহায় মানুষের জীবন, হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত মা

 

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে নুসরাত জাহান ইভা (১৯)। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে মেয়েকে লালন-পালন করতে নানা কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন মা জিন্নাত আরা জিনুক। দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকায় মেয়ের হাত-পায়ের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছিল ক্ষত। অবশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের মাধ্যমে সরকারি হুইল চেয়ার পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মা-মেয়ের জীবনে। মেয়ের জন্য হুইল চেয়ার হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জিন্নাত আরা জিনুক। অশ্রুসিক্ত চোখে তাঁর মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মেয়ের জন্য হুইল চেয়ার পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন জিন্নাত আরা জিনুক। তিনি বলেন, ‘জন্ম থেকেই আমার মেয়ে প্রতিবন্ধী। দীর্ঘ বছর ধরে অনেক কষ্ট করে তাকে লালন-পালন করছি। শুয়ে থাকতে থাকতে তার হাত-পায়ের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়ে যাচ্ছিল। আজ হুইল চেয়ার পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। আমি অনেক খুশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবেদন করার মাত্র দুই মাসের মধ্যে হুইল চেয়ার পেয়েছি। এতে আমরা খুবই আনন্দিত। এ সহায়তার জন্য সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

নুসরাত জাহান ইভার বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহীম সৌদি আরবে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাঁরা ফটিকছড়ি উপজেলার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজা রাস্তার বরকত আলী বাড়ির বাসিন্দা।

ফটিকছড়ির শহীদ শফিকুন নুর মওলা (বীরপ্রতীক) গণমিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসচ্ছল ব্যক্তি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার ও শিক্ষার্থীদের এককালীন অনুদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হুইল চেয়ার এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য এবং বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সরোয়ার আলমগীর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রহমত উল্যাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের সরকার। চা শ্রমিক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজিব আচার্য্যের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক, বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন কাঞ্চন ও উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির আজম চৌধুরী।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজিব আচার্য্য জানান, অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চা শ্রমিক পরিবারের সদস্য এবং স্কুল-কলেজের ৭৫ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে মোট এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাঁচজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে হুইল চেয়ার। এ ছাড়া ১৪টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে মোট সাড়ে চার লাখ টাকা এবং জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের আওতায় ১০ জনকে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা যায়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কষ্টে থাকা মেয়ের জন্য হুইল চেয়ার পেয়ে জিন্নাত আরা জিনুকের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া মানবিক সহায়তার গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরে। এ সময় হুইল চেয়ার পাওয়া অন্য চার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরাও তারেক রহমান সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ক্যাটাগরি